• বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০১:১৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবর
টেকনাফের ওসি ওসমান গনির নেতৃত্বে ইয়াবার বড় চালান উদ্ধার কুতুবজোম দাখিল মাদ্রাসায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত টেকনাফের হ্নীলা স্টেশনে এমপি বদির নিজস্ব অর্থায়নে স্থাপিত মাছ বাজার উচ্ছেদে জনমনে ক্ষু্দ্ধ প্রতিক্রিয়া লামায় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা পুরুষ্কার বিতরণ সম্পন্ন হুইপ কমল এমপি’র সহকারী একান্ত সচিব পদে নিয়োগ পেলেন মিজানুর রহমান কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের টেকসই মার্কেট লিংকেজ এবং পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত চকরিয়ার ওসি নাদিম আলী আবারও কক্সবাজারের শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ মনোনীত জমকালো আয়োজনে লামায় দৈনিক সাঙ্গুর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন কুতুবদিয়া লেমশীখালী উচ্চ বিদ্যালয়ে জাতীয় শিক্ষা পদক সংবর্ধনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ডাল্টন জহির FBCCI সিভিল এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম স্ট্যান্ডিং কমিটি 2023 – 2025 কো চেয়ারম্যান নির্বাচিত

জেল সুপার নেছার আলমের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, কক্সবাজার কারাগারে বাড়ছে বন্দী সেবা

কক্সবাজারবানী’র সাথে থাকুন
আপডেট : রবিবার, ১৪ মার্চ, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক
বদলে গেছে কক্সবাজার জেলা কারাগারের চিত্র। আগের চেয়ে বেড়েছে সেবার মান। পাশাপাশি করোনাকালীন সময়েও কারা অভ্যন্তরের সামগ্রিক উন্নয়নের চিত্র ও স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশে বেজায় খুশি কারাবন্দিরা। বিশেষ করে বর্তমান জেল সুপারের সুদক্ষ পরিচালনায় কক্সবাজার জেলা কারাগার এখন বাংলাদেশের মডেল কারাগার হিসেবে বাস্তবিক দৃষ্টান্ত। এমনটাই জানালেন সদ্য জামিনে মুক্তি বেশ কয়েকজন কারাবন্দি।
তাদের মতে, বর্তমান জেল সুপার মোঃ নেছার আলমের যোগ্য নেতৃত্বে কক্সবাজার জেলা কারাগার বাংলাদেশের অন্যান্য কারাগারের তুলনায় অনেক এগিয়ে। “রাখিব নিরাপদ, দেখাবো আলোর পথ” এ শ্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিতে কক্সবাজার জেলা কারাগারে ভেতরে বাহিরে কর্মরতরা একাগ্রচিত্তে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। কারাগারের স্বার্থ রক্ষা করে জনসাধারণের সেবা দিয়ে যাচ্ছে নিরলসভাবে। মোঃ নেছার আলম জেল সুপার হিসেবে যোগদান করার পর থেকে বিধি বিধান অনুসরণ করেই কারাগার পরিচালিত হচ্ছে।
বিধি মোতাবেক প্রাপ্য সকল সুবিধা বন্দিদের সমানভাবে দেয়া হচ্ছে। সেখানে টাকার বিনিময়ে আলাদা কোন সুবিধা দেয়ার প্রশ্নই আসে না। বিশেষ করে জেল সুপারের নেতৃত্বে কারাগারে শান্তি-শৃংখলা সৃষ্টি, কারা মনিটরিং, অসুস্থ বন্দিদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা, কারা ক্যান্টিনে ন্যায্যমূল্যের ব্যবস্থা, সার্বক্ষণিক তদারকি, বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ, উন্নতমানের খাবার পরিবেশন, পয়: নিষ্কাশন ব্যবস্থা, সর্বোপরি মানুষের মৌলিক চাহিদাসমূহ পৌঁছে দিতে কাজ করছেন কারাগারের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সততায় অবিচল থেকে মডেল কারাগারে রুপান্তর করতে কাজ করে যাচ্ছেন জেল সুপার মোঃ নেছার আলম।
এদিকে বর্তমানে কারাগারে চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ২ জন চিকিৎসক নিয়োজিত রয়েছেন। এসব চিকিৎসক প্রতিদিন রোগিদের দেখেন এবং চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকে। সেখান থেকে প্রকৃত অসুস্থ রোগিদের কারা হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়। এতে টাকার বিনিময়ে কোন বন্দিকে হাসপাতালে রাখার সুযোগ নেই। এদিকে রবিবার কক্সবাজারের স্থানীয় কক্সবাজার৭১ নামের একটি দৈনিকে কারাগারের বিষয় নিয়ে যে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে তা নিয়ে সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সদ্য কারামুক্ত চেইন্দা পাহাড়তলী এলাকার নুরুল হুদা ও হাবিবুর রহমান জানান, তারা একটি মামলায় বেশ কিছুদিন কারান্তরিন ছিল। বর্তমানে কারাগারের পরিবেশ বেশ চমৎকার।
কারাগারে প্রত্যেক বন্দিদের সমান সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আসছে কারা কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে সদ্য কারামুক্ত চকরিয়া গান্ধিপাড়ার দোস্ত মোহাম্মদ ও মাষ্টার হাফেজ আহমদ জানান, কারাগারে উন্নতমানের খাবার দেয়া হয় বন্দিদের। তাছাড়া সেখানে আমদানি ওয়ার্ড বলতে কিছুই নেই। কারা কর্তৃপক্ষ খুব সুন্দরভাবে কারাগারে সেবা প্রদান করে যাচ্ছে।
টেকনাফ নাইট্যং পাড়ার আব্দুর রহমান (যিনি ১২ মার্চ কারগার থেকে একটি মামলায় জামিনে মুক্ত হয়েছেন) বলেন, আমি দেখা মতে কোন ইয়াবা ব্যবসায়ী বাড়তি কোন সুযোগ-সুবিধা তথা আরাম আয়াশে থাকতে না পারে সেজন্য জেল সুপার সর্বদা সজাগ রয়েছেন। প্রতিদিন তিনি কারাগারের সকল ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন এবং বন্দি ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কারণে কারো অসুবিধা হচ্ছে না কিনা সে ব্যাপারে খোঁজ খবর নেন। শুধু তাই নয় ইয়াবা ব্যবসায়ীরা যেন অনৈতিক কর্মকান্ড করতে না পারে সেজন্য কারারক্ষীদের সচেতন হওয়ার নির্দেশ দেন।
১৪ মার্চ (রবিবার) দুপুরে জেলা কারাগারে কথা হয় রামুর মন্ডল পাড়ার ছকিনা বেগমের সাথে। তিনি এসেছেন তার স্বামীর সাথে দেখা করতে। তিনি জানান, এতদিন দেখা বন্ধ ছিল। গত ১ তারিখ থেকে সাধারণ ভাবে দেখা শুরু হয়েছে তাই তিনি এসেছেন। কারাবন্দির সাথে দেখা করতে কোন টাকা দিতে হয়না, উল্টো কারা কর্তৃপক্ষ সুন্দর ব্যবহার করে তাদের সাধারণ ভাবে দেখা করার সুযোগ করে দেন।
ডেপুটি জেলার এম. মনির হোসেন বলেন, আমি যোগদানের পর থেকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে কারা বন্দিদের প্রত্যক্ষ সেবা প্রদান করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কারাগারে যাতে কোন অপ্রীতিকর তথা প্রশ্নবিদ্ধ হয়, এমন কার্যক্রম যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে আমরা সজাগ রয়েছি।
জেল সুপার মোঃ নেছার আলম বলেন, কারাগার একটি স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠান। কারাগারে বিগত ৬ মাস ধরে আমি কর্মরত আছি। কাঠামো ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য আমার সার্বিক প্রচেষ্টায় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় কারাগারের উন্নয়নের চিত্র পাল্টে দেওয়ার চেষ্টায় রয়েছি। কারাগারের সেবার মান বাড়িয়েছি। কারাগারে মাদকের প্রবেশ যাতে না হয়, সে ব্যাপারে আমরা সজাগ রয়েছি। এখনো অনিয়ম-দুর্নীতির কোন প্রশ্নই আসে না। যদি কারাগারের কোন সদস্য অনিয়মের সাথে জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খান সম্পাদিত


আরো বিভন্ন নিউজ দেখুন