• বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ০২:০৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবর
ঈদগাঁও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৩টি পদে মোট ১৭জনের মনোনয়নপত্র দাখিল লাঞ্ছিত জীবনগাঁথা ঈদগাঁওতে ডিসি ও এস পি, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে ঈদগাঁওতে নতুন পুরাতন প্রার্থীদের দৌঁড় ঝাঁপ ইয়াবা ও দালালীর জাদুতে আলাদীনের চেরাগপ্রাপ্ত কথিত সাংবাদিক নেতা কেতারা কি আইনের উর্ধ্বে? জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলেন পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আব্দুল হাই ৩১ দিন পর অক্ষত অবস্থায় মুক্ত জাহাজসহ জিম্মি থাকা ২৩ নাবিক জামিন প্রাপ্ত মাদক ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া, ঠেকানো যাচ্ছে না আগ্রাসন পেটে ভাত নেই,”গরিবের আবার কিসের ঈদ” কক্সবাজারে মাদক পতিতার মজুদ,আনন্দ বাড়াতে উড়াল দিচ্ছে ধনীরা কুতুবদিয়ায় পানিতে ডুবে একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু

কামাল কান্ডে অতিষ্ঠ কক্সবাজার জেলা  হিসাবরক্ষণ অফিস 

ফরিদুল মোস্তফা খানঃ
আপডেট : রবিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৩


ফরিদুল মোস্তফা খান:


কক্সবাজারের বর্তমান জনসংখ্যা ২৮ লক্ষ। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী আসার পর জনসংখ্যা আরো ১২ লক্ষ বাড়ে।  এরসাথে পর্যটক, ভাসমান লোক মিলিয়ে জেলায় লোক সংখ্যা প্রায় ৪০ লক্ষ।  এ জেলা একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ও পর্যটন ঘিরে এ জেলার গুরুত্ব বিশ্বব্যাপী। তার উপর যুক্ত হয়েছে বর্তমান সরকার কর্তৃক চালু হওয়া বিভিন্ন মেগা প্রকল্প। এসব প্রকল্প এবং রোহিঙ্গাদের সামলাতে জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসকে হিমশিম খেতে হয়।

জানা যায়,কক্সবাজার হিসাবরক্ষণ অফিসের আওতায় ১৩৫ জন ডিডিও রয়েছে। তাদের মাধ্যমে মূলত বিভিন্ন সরকারি অফিস থেকে পেমেন্টের জন্য অনুরোধ আসে। এ অফিসকে প্রায় ৯ হাজার সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বেতন ভাতা দিতে হয়, এবং ১৫০০ জন পেনশনধারী কে পেনশন দিতে হয়। এসব নিয়ে তেমন সমস্যা হতো না,সমস্যা তৈরী হয়েছে  যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  কক্সবাজারকে বদলে দেওয়ার জন্য, দেশের অর্থনীতিকে সচল করার জন্য ডজনখানেক মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন। এসব প্রকল্প বাস্তবে রুপ দিতে প্রয়োজন হয় জমি অধিগ্রহণের।

অধিগ্রহনের বিষয়টির সাথে কক্সবাজার জেলার ভূমি অধিগ্রহণ শাখার এবং হিসাবরক্ষণ শাখা জড়িত।  আরো জড়িত কয়েক হাজার ভূমি মালিক যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।

কক্সবাজারের আকাশে যখন অধিগ্রহণের টাকা উড়ছিলো ঠিক তখনি সৃষ্টি হয় কয়েকটি শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট। তারা কক্সবাজার ভূমি অধিগ্রহণ শাখাকে ঘিরে একটি শক্তিশালী বলয় তৈরি করে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় জেলা হিসাবরক্ষণ অফিস। কারণ দিনশেষে টাকার হিসাব তাদের-ই দিতে হয়।  ভূমি অধিগ্রহণের অধিকাংশ-ই মাতারবাড়ি ধলঘাটা,কালারমারছড়া হওয়ায় এসব এলাকা থেকে এক শ্রেণির দালাল চক্র উঠে আসে। অতীতে এরকম দুই একটি দালাল চক্র আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে জেলও খাটে।

সম্প্রতি একটি দালাল চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে যাদের পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের একজন কর্মকর্তা।

এমন দাবি করেন জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের কয়েক জন কর্মচারী।

তিনি বলেন, অতীতে এ কর্মকর্তার বিতর্কিত ও অনৈতিক কর্মকান্ডে তাকে কক্সবাজার জেলা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় ।

এ হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা নিজেকে স্থানীয় বলে জাহির করে একই অফিসের কর্মরত অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনবরত তটস্থ রাখতো। শেষ পর্যন্ত তাকে বদলী করা হয় ঢাকায়।

তাঁর নাম কামাল হোছাইন।তিনি বর্তমানে সিএএফও ডাকও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সেগুনবাগিচায় কর্মরত আছেন।

সম্প্রতি কক্সবাজারের দুদকের গণশুনানিতে জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ সরজমিনে অনুসন্ধান করতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। গণশুনানিতে মহেশখালী উপজেলার কালামারছড়ার বাসিন্দা সোহানুর রহমান অভিযোগ করেন জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণ বাবদ এলএ শাখার চেক পাশের বিনিময়ে কক্সবাজার জেলার একাউন্টস অফিসার ও একই অফিসের এসএএস সুপার মোঃ সাইফুর রহমান  কে ৭০ হাজার টাকা ঘুষ দেন।

কিন্তু অনুসন্ধানে জানা যায়,  উক্ত সোহানুর রহমান সোহানের চেক এলএ শাখা থেকে পাঠানোর এক সপ্তাহের মধ্যে পাশ হয়েছে। তাহলে তাকে ৭০ হাজার টাকা কেন দিতে হলো।

অনুসন্ধানে এরকম ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায় নি।

পরে জানা যায়, উক্ত সোহানুর রহমানের বাড়ি মহেশখালীর কালারমারছড়ায়।

বিষয়টি যাতে দুদকের গণশুনানিতে উত্থাপিত হতে পারে তা সমন্বয় করেন একজন সরকারি কর্মকর্তা।  অনুসন্ধানে  বেরিয়ে আসে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য ।

জানা যায়, জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের সাবেক এসএএস সুপার কামাল হোছাইনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ।

দুদকের কাছে যে দুজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয় একজনের নাম হচ্ছে সাহাব উদ্দিন, আরেকজনের নাম হচ্ছে সাইফুর রহমান।

একটি সূত্রে জানায়, এ বছরের মে মাসের ১০ তারিখে মোঃ সাইফুর রহমান এসএএস সুপার অপর এসএএস সুপার কামাল হোছাইনের বিরুদ্ধে জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা বরাবর  একটি অভিযোগ করেন।

অভিযোগে সাইফুর রহমান বলেন,কক্সবাজার কার্যালয়ের অফিস আদেশ মতে তার উপর যে কর্ম বন্টন করা হয় সেই কাজের হস্তক্ষেপ করার জন্য কামাল হোছাইন প্রতিনিয়ত তাকে নির্দেশ প্রদান করতো। কামাল হোছাইন বলে কক্সবাজারের সবাই তাঁর নিকট আত্নীয় স্বজন,তাৎক্ষণিক চেক না দিলে পত্রিকায় নিউজ হবে। যদিও সে সাইফুর রহমানের মতো একই পদে কর্মরত ছিলো।

উক্ত সাইফুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,সেই সময়ে এ অভিযোগ  দেওয়া হয়েছিলো। এ অভিযোগের বিষয়ে  আপনারা  কিভাবে জানলেন। তিনি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন।

আরো অভিযোগ করে তাঁর কথা না শুনলে সিএজি, সিজিএ ও ডিসিএ মহোদয়ের নাম্বার সবাই কে দিয়ে দিবে। আরো বলে এ অফিসে কাজ করতে হলে তাঁর কথা শুনতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী জানান, কামাল হোছাইন তাঁকে প্রায়ই শারীরিক ভাবে নির্যাতন করতো। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের একটি উপজেলায় হওয়ায় তার কোন নিকটাত্মীয় কক্সবাজারে ছিলো না। তাই সে কোন প্রতিবাদ করতে পারে নি। তার মানসিক  নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে  একজন অডিটর তার অনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে আবেদন করেছিলো। এসব অভিযোগের বিষয়ে জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার মোঃ সাহাব উদ্দিন বেশ কয়েকবার বিভাগীয় ব্যবস্থা নেন। এতে কামাল হোছাইন আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।

কামাল হোছাইন  প্রায়ই জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসারের   সাথে খারাপ ব্যবহার করতো বলে একটি সূত্র জানায়।

এ ব্যাপারে কালারমারছড়া ইউনিয়নের এক ব্যক্তি জানান, কামাল হোছাইন মূলত  কালারমারছড়ার  মাইজ পাড়ার বাসিন্দা। কিন্তু নিজেকে পরিচয় দেয় কামাল রোহানি নামে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়ে নিজের ক্ষমতা প্রদর্শন করে।। কামাল হোছাইন যখন কক্সবাজারে কর্মরত ছিলো  তখন দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা হওয়া স্বত্তেও নিজের জন্য  একটি আলাদা কক্ষ বানিয়ে সেখানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি টাঙায়। এমনকি তার পদ- পদমর্যাদার সম  পর্যায়ের অপর কর্মকর্তার সাথে একই রুমে বসে অফিস করার জন্য তাকে বারংবার বলা হলেও সে তা উপেক্ষা করে এবং সরকারি আদেশ লঙ্ঘন করে। তাঁর বিরুদ্ধে অফিসিয়াল চেইন অব কমান্ড না মেনে বিভিন্ন কর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মানসিক চাপ সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে। এ সম্পর্কিত তথ্যাদি অত্র প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে। একটি সূত্র জানায়, উত্তরাধিকার সূত্রে তেমন জায়গা সম্পত্তি না পেলেও গত কয়েক বছরে বিপুল সম্পত্তির মালিক বনে যান কামাল।

তার এসব কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে কয়েকজন কর্মকর্তা তার সম্পদ অনুসন্ধান করার জন্য মিডিয়া কর্মীদের অনুরোধ করেন।

একটি অসমর্থিত সূত্র দাবি করে,  কক্সবাজার শহর ঢাকা, চট্টগ্রাম সহ কয়েকটি স্থানে তার সম্পদ অনুসন্ধানের জন্য দ্রুত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

এমনকি সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মানুষকে উস্কে দেওয়ার অভিযোগে তার কল লিস্ট চেক করা প্রয়োজন । আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি তার কল লিস্ট চেক করে তাহলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।

এ ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে ফোনের নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় নি।


আরো বিভন্ন নিউজ দেখুন