• মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ০১:২৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবর
জনপ্রিয় আলেম ও ইসলামী বক্তা মাওলানা লুৎফুর আর নেই :সর্বত্রে  শোকের ছায়া ঈদগাঁওতে মাওলানা আব্বাসের জানাজায় মুসল্লির ঢল বাইতুল ইজ্জত জামে মসজিদের বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত  বর্নাঢ্য আয়োজনে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন সমিতির বার্ষিক মিলন মেলা ও পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন  লামায় মানবজমিন-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ঈদগাঁওর সুপারি গলির আশপাশ ময়লা আবর্জনায় ভরপুর : ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ  উখিয়ায় আলোচিত সৈয়দ করিম হত্যাকন্ডের আসামী  সালামত উল্লাহ গ্রেফতার : রক্তাক্ত ছুরি ও নিহতের পরিহিত জামা উদ্ধার পুলিশ পদক পেলেন কক্সবাজার পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম। পুলিশ সপ্তাহ ২০২৪’ উপলক্ষে পদক পেলেন র‌্যাব-১৫ এর সিইও সহ ৩ কর্মকর্তা টেকনাফ থানার ওসি ওসমান গনির নেতৃত্বে পুলিশের অভিযানে দুইটি অস্ত্র উদ্ধার।

কক্সবাজার বাসীর দৃষ্টি এখন প্রধানমন্ত্রীর দিকে  শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীকে দেড় লক্ষ ভোটে পরাজিত করে বিজয়ী এমপি  কমলকে মন্ত্রী করার দাবি

ফরিদুল মোস্তফা খান :
আপডেট : মঙ্গলবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৪


ফরিদুল মোস্তফা খান :


২০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে কক্সবাজারের ইতিহাসে সর্বাধিক জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব তুখোঁড় মেধাবী রাজনীতিবীদ জাতীয় সংসদের শ্রেষ্ঠ বক্তা আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল এমপিকে মন্ত্রী করার নীরব বাসনায় গণতন্ত্রের মানসকন্যা প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে আছেন কক্সবাজার জেলা বাসী।

 

নির্বাচনি এলাকার বিএনপি, জামায়াত সহ দলমত ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের ভোটে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র  প্রার্থীকে প্রায় দেড় লক্ষ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন তিনি।

 

এতে করে,বিএনপি জামায়াতের দূর্গ কক্সবাজারে স্বাধীনতার পর থেকে এই পর্যন্ত সকল জাতীয় নির্বাচনী রেকর্ড ভঙ্গ করে এমপি কমল এক অনন্য নজির স্থাপন করে টানা তৃতীয় বারের মত হ্যাট্রিক করলেন।

 

জানাগেছে,এমপি হওয়ার আগেও পরে কোমল শিশুর মত সব মানুষকে বুকে টেনে নেওয়া সহজ সরল নরম মনের পরোপকারী এমপি কমল ২০১৪, ২০২৮ সালের দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদীয় আসন ২৯৬ কক্সবাজার -৩ আসনে এই বিজয় লাভ করেন।

 

বাংলাদেশের  ভোটের হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ আওয়ামীলীগ থেকে নির্বাচিত ২২২ জন এমপির মধ্যে

সর্বোচ্চ ভোটে তার অবস্থান শীর্ষ ১৫ এর মধ্যে।

সারদেশের ২৯৮ এমপির প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এমপি কমলের অবস্থান শীর্ষ ২১ এ।

 

কক্সবাজার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রসাশক মুহাম্মদ শাহীন ইমরান প্রদত্ত ফলাফল মতে এমপি কমলের নৌকা প্রতীকে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৯ টি।

 

এই আসনে সর্ব মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯৫ হাজার ৫শ ৭।

তৎমধ্যে মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ৯২ হাজার ১শ ১৭।

সেখানে বাতিল হয়েছে ৩ হাজার ৩শ ৯০ ভোট।

এমপি কমলের নিকটতম শক্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী ঈগল প্রতীকের মিজান সাঈদ পেয়েছেন মাত্র ২১ হাজার ৯শ ৪৬ ভোট।

 

এই অবস্থায় স্থানীয় ভোটারদের শতকরা ৩৯ দশমিক ৯৩% প্রদত্ত ভোটের হিসেবে কক্সবাজার জেলার ৪ আসনের এমপিদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটে বিজয়ী এমপি কমলের রাজনৈতিক চমকে কক্সবাজারে বিরাজ করছে উল্লাস।

 

তবে জননেত্রী শেখ হাসিনা ও এমপি কমলের নির্দেশে বিজয় মিছিল বের না হলেও কক্সবাজার- ৩ আসনের সাধারণ ভোটারদের মাঝে বিরাজ করছে এখনো অনন্দ উল্লাস।

 

তাদের অনেকেই বলছেন,মানুষের সুখে দুঃখে বিপদে আপদে ছুটে আসা অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এমপি কমলকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি এবার মন্ত্রী হিসেবে উপহার দেন কক্সবাজারবাসী নেত্রীর জন্য দু হাত তুলে দোয়া করবেন।

 

যোগ্য নেতৃত্বে নতুন গতি সঞ্চার করে এমপি কমল প্রধানমন্ত্রীর হাতকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি কক্সবাজার বাসীর জন্য আরও অনেক কিছু করতে পারবেন বলে মনে করেন সচেতন মহল।

 

শিক্ষা- দিক্ষা মেধা-মনন ও জনপ্রিয়তায় সেরা এমপি কমল ২০৪১ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উন্নত সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশের একজন সফল কান্ডারী হতে পারবেন।এতে কোন সন্দেহ নেই।

 

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর, সাবেক ডাকসু নেতা, কক্সবাজারের শ্রেষ্ট সমাজসেবক, সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য, রাষ্ট্রদুত ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আলহাজ্ব ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী’র ছেলে এমপি কমল কক্সবাজার সদর রামু ঈদঁগাও নয়, শুধু মানুষের বিপদ আপদে দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশ(নেপাল)সহ যেখানেই খরা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, করোনা মহামারি,দূর্যোগ,দুর্ভোগ রোহিঙ্গা সহ বিভিন্ন সমস্যা সেখানে মানবিকতায় ছুটে চলেন।

করোনা মহামারীর সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি হাসপাতালের চিকিৎসকদের সাথে রেড জোনে থেকে মানুষের চিকিৎসা দিয়েছেন।

কেউ মারা গেলে লাশ কাঁদে করে ২/৪ জন মানুষ নিয়ে তিনি লাশ দাফন করেছেন।

দিয়েছেন আর্থিক সহায়তা।

দৈনিক কক্সবাজারবাণীর অনুসন্ধান উঠে এসেছে, এমপি কমল ১০ বছরের সংসদ সদস্যা থাকা কালে হাজার হাজার বেকারের কর্মসংস্থান করেছেন বিনা পয়সায়।

তার রাজনৈতিক জীবনে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের কোন নেতা কর্মীকেও একটি মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হয়নি।করেননি দুর্নীতি।

 

পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে সর্বজন গ্রহণযোগ্য এমপি কমলের বিরুদ্ধে এক ইঞ্চি জমি জবর দখলের অভিযোগ কেউ করতে পারেনি এই পর্যন্ত।

 

এমপি কমলের জীবন বৃত্তান্ত :

 

শিক্ষাঃ

 

• তিনি বেলজিয়ামের ব্রাসেলস ইউনিভার্সিটি (ইউএলবি) থেকে আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিষয়ে এমএসএস ডিগ্রি অর্জন করেন।

 

• চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোকপ্রশাসন বিষয়ে বিএসএস সম্মানসহ এমএসএস ডিগ্রি অর্জন করেন।

 

• আমেরিকার মিশিগান স্টেইট ইউনিভার্সিটি থেকে “এক্সটার্নাল রিলেশনস অব দি ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন” বিষয়ে ডিপ্লোমা অর্জন।

 

• ফ্রান্সের ওআইসিডি থেকে “দি অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন এন্ড ডেভলপমেন্ট” বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

 

সেবাঃ

 

ব্যক্তিগত উদ্যোগে গরীব রোগীদের আর্থিক সহযোগিতা দান তার অন্যতম কর্ম। ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যা, ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়, ১৯৯৪ সালের তুফানে বিপর্যপ্ত মানুষের সেবা দান এখনো মানুষ স্মরণ করে। ২০১০ ও ২০১২ সালের ভয়াবহ বন্যা, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২১ সালের বন্যায় মানুষকে তাঁর দুহাতে সহযোগিতা কক্সবাজারের একক ও অদ্বিতীয়। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের মাঝে তাঁর নেতৃত্বে ১০১ ট্রাক ত্রান বিতরণ করে অনন্য নজির স্থাপন করেন। ২০২০ ও ২০২১ সালে করোনার সময় যখন মানুষের পাশে মানুষ যায়নি, তখন তাঁর মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে করোনায় মৃতদের জানাযা পড়নো, লাশ দাফন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দান মানুষকে অবাক করে। ২০০৪ সালে উত্তরবঙ্গে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান সেবা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং ২০০৭ সালে সিডরে ক্ষতিগ্রস্থ বাগেরহাটের শরনখোলায় দূর্গতদের ত্রান সেবা দেন। ২০১৫ সালে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১৯ জনের প্রতিনিধি দল নিয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধাস্থ নেপালের সবচেয়ে দূর্গম এলাকা ১৬০০০ ফুট উচু সিন্ধুপালচকে গিয়ে ত্রান ও চিকিৎসা সেবা দেন। নেপালের স্থানীয় পত্রিকার খবরে বলা হয়- যেখানে স্থানীয় সাংসদ যায়নি সেখানে বাংলাদেশের সাংসদ চলে গেছে।

 

শিক্ষায় ভূমিকাঃ

 

তাঁর সময়ে কক্সবাজার সদর-রামু ও ঈদগাঁহ উপজেলায় স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষার ব্যাপক উন্নয়ন হয়। সাইমুম সরওয়ার কমল উচ্চ বিদ্যালয়সহ নতুন ১৯টি উচ্চ বিদ্যালয়ের ও অসংখ্য প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন, প্রতিটি কলেজে অর্নাস কোর্স চালু করণ, বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় নতুন ভবন প্রতিষ্ঠায় তিনি প্রশংসিত হয়েছেন। উচ্চ শিক্ষার্থে বিদেশ গমনে ছাত্র-ছাত্রীদের তাঁর আর্থিক সহযোগিতা দান মানুষের কাছে প্রশংসিত।

 

উন্নয়ন ও অন্যান্য ভূমিকাঃ

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সময়ে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রামু সেনানিবাস, রেললাইন স্থাপন, বিকেএসপি, ঈদগাঁও উপজেলা গঠন, বিভিন্ন রাস্তা ও বড় বড় সেতু নির্মাণসহ ব্যাপক উন্নয়ন করেন। তিনি বিদেশের কারাগারে শত শত বন্দী ও মৃতদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে অনন্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় ওয়াজ মাহফিল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠনের সাথে জড়িত। সম্প্রীতি রক্ষায় তাঁর ভূমিকা অনন্য।

 

আন্তর্জাতিক ও পার্লামেন্টারীতে রাজনীতিতে ভূমিকাঃ

 

* তিনি ২০১৫ সালে আইপিইউ আয়োজিত দক্ষিন কোরিয়া পার্লামেন্টে বাংলাদেশের একক প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০১৭ সালে জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য রাখেন। ২০১৯ সালে মঙ্গোলীয়ায় আয়োজিত আইপিইউ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। ২০১৯ সালে বৃটিশ পার্লামেন্টে আইপিইউ কর্তৃক আয়োজিত বিশেষ সম্মেলনে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালে বাহারাইনে এশিয়ান পার্লামেন্টারী এসোসিয়েশন সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি জাতীয় সংসদে মাননীয় স্পীকার কর্তৃক স্বীকৃত অন্যতম শ্রেষ্ঠ বক্তা।

 

• ২০১৬ সালে ভারতে দিল্লীর লোকসভার বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশ নেন। ২০২১ সালে মাননীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদের নেতৃত্বে কলকাতায় গড়ের মাঠে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক জনসভার ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। তাছাড়া তিনি বাংলাদেশ-সৌদিআরব সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপের অন্যতম সদস্য।

 

• তিনি ছাত্র জীবনে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মঙ্গোলিয়া, চীন, বেলজিয়াম, সংযুক্ত আরব আমিরাত, স্পেন, জার্মানী,

 

নেদারল্যান্ড, ফ্রান্স, ইতালি, লোক্সেমবার্গ, সৌদিআরব, তুরস্ক, ওমান, ভারত, থাইল্যান্ড, সিংগাপুর, হংকং ও মায়ানমারসহ বহু দেশ ভ্রমন করেন।

 

২০১০ সালে পবিত্র হজ্ব পালনসহ ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অসংখ্যবার ওমরা পালন করেন। বই পড়া তার শখ। তিনি ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদের সর্বোচ্চ লাইব্রেরী ব্যবহারকারী সংসদ সদস্যদের ৫ জনের ১ জন। তিনি ৩৬ বার রক্ত দান ও মরনোত্তর চক্ষু দান করেন।

 

কক্সবাজার-০৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনের অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করে স্মার্ট কক্সবাজার প্রতিষ্ঠা করাই তাঁর লক্ষ্য।

সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খান সম্পাদিত


আরো বিভন্ন নিউজ দেখুন