• বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:০৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবর
ঈদগাঁও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৩টি পদে মোট ১৭জনের মনোনয়নপত্র দাখিল লাঞ্ছিত জীবনগাঁথা ঈদগাঁওতে ডিসি ও এস পি, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে ঈদগাঁওতে নতুন পুরাতন প্রার্থীদের দৌঁড় ঝাঁপ ইয়াবা ও দালালীর জাদুতে আলাদীনের চেরাগপ্রাপ্ত কথিত সাংবাদিক নেতা কেতারা কি আইনের উর্ধ্বে? জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলেন পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আব্দুল হাই ৩১ দিন পর অক্ষত অবস্থায় মুক্ত জাহাজসহ জিম্মি থাকা ২৩ নাবিক জামিন প্রাপ্ত মাদক ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া, ঠেকানো যাচ্ছে না আগ্রাসন পেটে ভাত নেই,”গরিবের আবার কিসের ঈদ” কক্সবাজারে মাদক পতিতার মজুদ,আনন্দ বাড়াতে উড়াল দিচ্ছে ধনীরা কুতুবদিয়ায় পানিতে ডুবে একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু

নৌকার মনোনয়ন কিনে নিজে কিংবা ঘনিষ্ঠ কাউকে এমপি বানাতে টাকা ঢালছে বদির স্বজনরা 

ফরিদুল মোস্তফা খানঃ
আপডেট : মঙ্গলবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৩


ফরিদুল মোস্তফা খান :


কক্সবাজার-৪ আসনের ক্ষমতাসীন দলের সাবেক আলোচিত সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি আবারও নিজে কিংবা তার স্ত্রী অথবা শ্যলক উখিয়া রাজা পালংয়ের ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরীকে নৌকার মনোনয়ন কিনে এমপি বানাতে আকাশে বাতাসে মাদকের টাকা উড়াচ্ছে।

স্থানীয় দালাল কিছু সংবাদকর্মী পরিচয়ী চিহ্নিত চাঁদাবাজ মাদক সিন্ডিকেটকে নগদে তুষ্ট করে করে একের পর এক স্বাক্ষাৎকার দিয়ে আলোচনায় থাকছেন সর্বক্ষন।

কক্সবাজার জেলা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগে ঘাপটি মেরে থাকা তার মধুতে তুষ্টদের বিভিন্ন কায়দায় আরও তুষ্ট করে নিজেদের ভাগ্য ধরে রাখতে বাড়িয়ে দিয়েছেন অভ্যন্তরিন যোগাযোগ।

একই সাথে মাফিয়া চক্রের মাধ্যমে দেশের বাইরের চাপ অথবা সুপারিশের মাধ্যমে জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে আবারও যেন নৌকার প্রতীক ভাগিয়ে নিতে তিনি নিজের ভাই ইয়াবা সিআইপি শুক্কুরকে বিদেশ পাঠিয়ে দিয়ে সেখান থেকে কিছু করা যায় কিনা চেষ্টা করছেন।

এই কারণে তারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে দুবাই সিঙ্গাপুর মালয়েশিয়া থাইল্যান্ড ভারত সহ অনেক দেশের মাফিয়া সম্রাটদের দারস্থ হয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার পরিবার এবং আওয়ামিলীগের মনোনয়ন বোর্ডের মন গলানোর অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে।

শুধু তাই নয়,ক্ষমতা পাগল আব্দুর রহমান বদি এবং তার সিন্ডিকেট যে ভাবেই হোক নিজেদের অস্তিত্ব ধরে রাখতে টেকনাফের চিহ্নিত মাদকলীগকে বস্তা বস্তা টাকা দিয়ে স্থানীয় ঘুষখোরদের ছত্রছায়ায় উখিয়া এবং টেকনাফের দু উপজেলার আনাছে কানাছে চষে বেড়াচ্ছেন।

যেখানে যাচ্ছেন সেখানে বলে রাখছেন,পৃথিবীতে টাকার উপর কোন শক্তি নেই। শেখ হাসিনা মনোনয়ন না দিলে তিনি প্রয়োজনে অবস্থা বুঝে নিজের সন্তান শাওনকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাড় করাবেন।

অথবা দরকার হলে রোহিঙ্গা এবং মাফিয়াদের সাৎে নিয়ে উখিয়া টেকনাফকে আলাদা করে আরাকান রাজ্য ঘোষনা করে নিজেই প্রধানমন্ত্রী, নিজেই রাষ্ট্রপতি হবেন।

জীবন যাবে তবুও কোন অবস্থায় সীমান্তে ক্ষমতা হাতছাড়া করা যাবে না।

জানা গেছে, বদি সিম্ডিকেট এবার এমপি হতে  বেশ আগেভাগেই টাকার বিনিময়ে মাঠে নামানোর গোপন চেষ্টা চালাচ্ছে সেখানকার  বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকদেরও।

টেকনাফের ‘ইয়াবা রাজ্যে’ বদি ও তার অনুসারীদের একচ্ছত্র আধিপত্য কোনো অবস্থাতেই যেন হাতছাড়া না হয় সে জন্য বদিলীগ নৌকার মনোনয়ন না পেলে  সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম, মামলা মোকাদ্দমা এবং মানববন্ধন বা সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টিও মাথায় রেখে এগুচ্ছেন।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের করা ইয়াবা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের তালিকায় মূল হোতা হিসেবে এমপি বদিকে চিহ্নিত করা হয়েছে অনেক আগেই।

ওই তালিকায় বদির ১৭ জন আত্মীয়ের নাম আছে। মানব পাচার ও তাদের পৃষ্ঠপোষকের তালিকায়ও শীর্ষে আছেন এমপি বদি। তার ছোট ভাই পৌর কাউন্সিলর মৌলভী মজিবুর রহমানের নাম আছে তালিকার তিন নম্বরে। রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র সরবরাহকারীদের তালিকায় মুজিবরের নাম আছে আটে। তালিকার দুই ও চার নম্বরে আছে বদির অপর ছোট ভাই আবদুর শুক্কুর ও শফিকুল ইসলাম। বিভিন্ন অপরাধে জড়িত বদির আত্মীয়দের মধ্যে আরও রয়েছে তার ভাই আবদুল আমিন, বোন শামসুন্নাহার, বোনের ছেলে সাহেদুর রহমান নিপু, বোনের দেবর হামিদ হোসেন, বোনের চাচাতো দেবর আক্তার কামাল, শাহেদ কামাল, জসিম উদ্দিন রাব্বানী, মোয়াজ্জেম হোসেন দানু, বোনের ননদের স্বামী নুর মোহাম্মদ মেম্বার প্রমুখ।

তারা এতদিন বদির অপরাধ সামাজ্য অটুট রাখতে সামনে থেকে ভূমিকা রেখে এসেছে। তাদের দাপটে স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন এখনো কোণঠাসা।

 

সম্পদের তথ্য গোপনের দায়ে আবদুর রহমান বদিকে তিন বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন আদালত।

রায়ের পর মাদক ও মানব পাচারের সঙ্গে জড়িতদের তালিকায় থাকা বদির ভাই ও স্বজনরা আত্মগোপনে চলে যায়। তারা আত্মগোপনে থেকে বদির কাছ থেকে সুবিধাভোগী ও অর্থলোভী লোকদের দিয়ে এমপি বদির মুক্তির আন্দোলন শুরু করে।এরপর টেকনাফ পৌর আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক নিজের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বাহাদুরকে সামনে দিয়ে স্থানীয় উখিয়া-টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের কিছু নেতার মাধ্যমে প্রতিবাদ সমাবেশ করায়।

 এরপর তারা বদিকে দুদকের মামলায় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি করে এনে একে একে এলাকায় আসা শুরু করে। এখন তারা সেই একই সিন্ডিকেট আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বদিকে বা নিজেদের পরিবারের কাউকে এমপি বানাতে দু’হাতে টাকা বিলাচ্ছে। বিভিন্ন স্কুল-কলেজের কমিটি ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদেরও মাঠে নামিয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার আগমনে বিশেষ মহড়া দিয়ে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের জন্য গোপনে মাদক ব্যাবসায়ীদের কাছ থেকে ব্যাপক চাদাবাজি করছেন বলেও খবর পাওয়া যাচ্ছে।

 

তবে টাকার বিনিময়ে নয়; দায়িত্ববোধ থেকেই বদিকে

আবারও এমপি বানাতে চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে  দাবি তার সমর্থিত কয়েকজন উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের বিতর্কিত ব্যাক্তির

 এমপি বদির শ্যালক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী কিছুদিন আগে সাংবাদিকদের দাবি করেন এমপি বদির জনপ্রিয়তাই তার জন্য কাল হয়েছে।

তিনি ২০০৮ সালে এমপি হওয়ার পর থেকে উখিয়া-টেকনাফে নিজস্ব কার্ডের মাধ্যমে এক লাখ দরিদ্র মানুষকে নিয়মিত সহযোগিতা দিয়েছেন। এসব কারণে বদির জন্য সেখানকার দরিদ্ররাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিচ্ছেন।

তবে টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি অধ্যাপক মুহাম্মদ আলী মৃত্যুর আগে গণমাধ্যমকে বলেন, আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে যারা বদির জন্য আন্দোলন করছেন তারা সবাই এমপি বদির পোষ্য। এদের মধ্যে অনেকে দলীয় পদধারী হলেও তাদের প্রকৃত পরিচয় ‘বদিলীগ’। বদির কাছ থেকে নানা সুযোগ-সুবিধা নিয়ে এদের অনেকে অঢেল টাকার মালিকও হয়েছেন। প্রকৃত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বদির মুক্তির আন্দোলনে নেই।

 

টেকনাফ থানার সাবেক এক ওসি জানান, এমপি বদির ভাই ও স্বজনরা এখন এলাকায়। তারা বদির সবকিছু  তদারকি  করে।

বদির মুক্তির পর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া অপরাধ। আইনকে সম্মান জানিয়ে এসব প্রতিবাদ থেকে সরে আসতে আন্দোলনকারীদের সতর্ক করা হয়েছে। তবে বদির কারামুক্তির আন্দোলনে জেলা কমিটির সম্মতি রয়েছে কিনা সে ব্যাপারে স্পষ্ট কিছু বলতে চাননি তিনি।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একটি সূত্র জানায়, এমপি বদির গ্রেফতারের পর টেকনাফের সম্ভাব্য ইয়াবা ব্যবসায়ীদের নতুন করে তালিকা করছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। খুঁজে দেখা হচ্ছে মামলার নথি। র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের তৎকালীন এক অধিনায়ক বলেছিলেন, টেকনাফের ‘ইয়াবা বাজার’-এর লাগাম টেনে ধরতে সম্ভাব্য সবার ওপরে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কার বিরুদ্ধে অতীতে কী মামলা হয়েছে সেসবেরও খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। তিনি জানান, আর কোনো গডফাদার যাতে আবির্ভূত না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এদিকে বদির মুক্তির আন্দোলন সেই সময় যারা মানববন্ধন করেছিল,স্থানীয় বিভিন্ন  কলেজের ম্যানেজিং কমিটি-শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এতে বদির মুক্তির দাবিতে আন্দোলনরত কিছু বিতর্কিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন। বক্তব্য দেন টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদ, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শেখ জয়নাল আবেদীন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জহির হোসেন প্রমুখ।


আরো বিভন্ন নিউজ দেখুন