• শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ১২:১০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবর
লাঞ্ছিত জীবনগাঁথা ঈদগাঁওতে ডিসি ও এস পি, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে ঈদগাঁওতে নতুন পুরাতন প্রার্থীদের দৌঁড় ঝাঁপ ইয়াবা ও দালালীর জাদুতে আলাদীনের চেরাগপ্রাপ্ত কথিত সাংবাদিক নেতা কেতারা কি আইনের উর্ধ্বে? জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলেন পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আব্দুল হাই ৩১ দিন পর অক্ষত অবস্থায় মুক্ত জাহাজসহ জিম্মি থাকা ২৩ নাবিক জামিন প্রাপ্ত মাদক ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া, ঠেকানো যাচ্ছে না আগ্রাসন পেটে ভাত নেই,”গরিবের আবার কিসের ঈদ” কক্সবাজারে মাদক পতিতার মজুদ,আনন্দ বাড়াতে উড়াল দিচ্ছে ধনীরা কুতুবদিয়ায় পানিতে ডুবে একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু টেকনাফ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়দের সহায়তা চাইলেন এসপি মাহফুজ

কক্সবাজার ভ্রমণের তিক্ত অভিজ্ঞতা : সর্বত্রে গলাকাটা বানিজ্য

মোঃ রেজাউল করিমঃ
আপডেট : মঙ্গলবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৩


মোঃ রেজাউল করিমঃ


আগেও দুবার কক্সবাজারে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল, কিন্তু এবারের ব্যাপারটা পুরোই ভিন্ন,সপরিবারে ফ্যামিলি কে নিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা করলাম ২৩-১০ ২০২৩ তারিখ ঢাকার আরামবাগ থেকে সেন্টমার্টিন পরিবহনের ইকোনমিক ক্লাস মানের বাসে, সামনের দিকে তিনটি সিট নিলাম, আরামবাগে সেন্টমার্টিন পরিবহনের কাউন্টারে গিয়ে যা দেখলাম, সেখানে ছোট্ট একটা স্পেস যেখানে ১৫ থেকে ২০ জন যাত্রী বসার জায়গা আছে ,অথচ তাদের প্রতি রাতে এখান থেকে পাঁচটি থেকে আট গাড়ি  কক্সবাজার টেকনাফ রাঙ্গামাটি খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়, সেখানে মিনিমাম দুই থেকে তিনশ যাত্রী অথচ তাদের ব্যবস্থাপনা খুবই অল্প সংখ্যক, সেখানে তাদের সাথে কথা বলার পরে তারা ওই একই স্টাইলে কথা বললেন, তাদের গা মাখানো কথা যেটি সবসময়ই ঘটে থাকে আমাদের দেশে, তাদের বসার ব্যবস্থাপনা মোটামুটি নিম্নমানের হলেও গাড়ির সার্ভিস মোটামুটি ভালো, কিন্তু গাড়ির ড্রাইভার তার নিজের খেয়াল খুশিমতো এই গাড়ি চালাচ্ছে যাত্রীদের তেমন কোন পরামর্শ বা তাদের কথার তোয়াক্কা না করেই এভাবেই চলতে চলতে পৌঁছে গেলাম যাত্রা বিরতির ওখানে, ওখানে গিয়ে বিশাল এক রেস্টুরেন্ট, যেখানে নিচতলা দোতলা মিলিয়ে চেয়ার টেবিল দিয়ে সাজানো সুন্দর মনোরম পরিবেশে, অনেক মনোরম ডেকোরেশন এর মাধ্যমে সাজিয়ে রাখা সেই রেস্টুরেন্টের ভিতরে ঢুকতেই দেখি ময়লা আর ময়লা ,  দাঁড়িয়ে থাকো ওয়েটার বলল স্যার বসুন বসুন, বসার পরে অর্ডার দিয়ে দেখি আর কারো কোন খবর নেই, অনেকক্ষণ পরে ওয়েটার সাহেব আসলেন খাবার দিলেন,  মোটামুটি পড়াটা আর চা ডাল ভাজি দিয়ে খাওয়া দাওয়া শেষ করলাম , এই খাবার খাওয়ার কারণ হলো, তাদের এখানে বিরানি গরুর মাংস খাসির মাংস ছাড়া আর কিছুই নাই দাম আকাশচুম্বী, এটা হল তাদের বিজনেস পলিসি এই জন্যই মোটামুটি খেলাম,  যাইহোক মোটামুটি এই খাবারের বড় একটা বিল একটা ধরিয়ে দিল ১০ টাকার পরোটা ২০ টাকা ২০ টাকার ভাজি ৫০ টাকা এ যেন এক ভদ্রবেশে ডাকাতির স্থান,দেখার যেন কেউ নেই, এই ভদ্রবেশে খাবার বিক্রির ডাকাতির স্থানে যদি ভোক্তা অধিকারের মোবাইল কোড  যেত, তাহলে প্রতিষ্ঠানে মনে হয় থাকবে না সিলগালা করে দেওয়া হতো,যেই পরিবেশ দেখলাম এভাবে আরও একটা রেস্টুরেন্টে বিরতি পেলাম ,একই চিত্রের ওখানেও, গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাস ধীরে ধীরে অবনতি হতে চলল, এই অবস্থার মধ্য দিয়ে সকাল সাতটার দিকে পৌঁছে গেলাম কক্সবাজারের কলাতলী মোড়ে ,সেখান থেকে একটি অটো নিয়ে ডাইরেক্ট চলে গেলাম হোটেলে, হোটেল ডায়মন্ড এ চেকিং দিয়ে চলে গেলাম ডায়মন্ড রেস্টুরেন্টে নাস্তা করার জন্য সেখানে গিয়ে দেখি ভদ্রবেশে আরেক ডাকাতির খাবারের হোটেল, খাবারের মান খুবই নিম্নমানের, অভদ্র ব্যবহার মোটামুটি নাস্তা খেয়ে বাইরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতেই দেখি আবহাওয়ার অবস্থা অনেক অবনতি হচ্ছে, সাত নম্বর বিপদ সংকেত দেয়া হয়েছে কক্সবাজারে,কি আর করব হোটেলের রুমে গিয়ে রেস্ট ছাড়া টিভি দেখার লুডু খেলা ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না ,তাই করলাম জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান জনাব ফরিদুল মোস্তফা খান সাহেবের আসার কথা ছিল রাত ৯ টায় দেখা করতে ,কিন্তু আবহাওয়ার অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে গেল,  কক্সবাজারকে ১০ নম্বর মহা বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে, জীবনের ভয়ংকরতম এক অভিজ্ঞতা, শুরু হয়ে গেল সাড়ে সাতটা থেকে আটটার ভিতরে কঠিন আকারে ঘূর্ণিঝড়, এক থেকে দেড় ঘন্টায় ঝড়ের তাণ্ডব চলতে থাকলো, জানালার পাশ দিয়ে উঁকি দিয়ে মাঝে মাঝে দেখলাম ভয়ংকর সেই ঝড়ের তান্ডব, ফ্যামিলির লোককে সান্ত্বনা দিতে লাগলাম ,এমন অবস্থায় আমার এই এলাকার এক ভাতিজা প্রিন্স ফেসবুকে স্ট্যাটাস ছিল যে আমি এখন কক্সবাজারের ঝড়ের ভিতর আছি, ওর স্ট্যাটাস দেখেই ওকে ফোন দিলাম জিজ্ঞেস করলাম তুমি কোথায় আছো ও আমাকে বলল কাকা আমি কক্সবাজারের আছি ওর সাথে কথা বলে মোটামুটি ভালোই লাগলো, এপারে ঝড় থেমে গেল ,কিন্তু কারেন্ট নেই রোড-ঘাটে বিধ্বস্ত অবস্থা বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় ধরনের গাছ পড়ে আছে, মোটামুটি এক তাণ্ডবের সবকিছু লন্ডভন্ড হয়ে গেল কক্সবাজার, সকালবেল ঘুম ভেঙ্গেই দেখি আকাশে সূর্যের হাসি, রোদে ঝলমল কক্সবাজার কিন্তু মোবাইলে নেটওয়ার্ক নেই, কারেন্ট নেই ইন্টারনেট নেই, যাই হোক সকাল নাস্তার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে,আমাদের হোটেলের পাশেই গোল্ডেন ফিশ নামে রেস্টুরেন্টের ভিতরে ঢুকলাম, ঢোকার পরে তাদের ব্যবহার মোটামুটি ভালো, খাবারের অর্ডার দিয়ে খাবার খেয়ে অন্যরকম একটা স্বাদ পেলাম, সিদ্ধান্ত নিলাম খাওয়া-দাওয়া টা এখানে করব, নাস্তা খাওয়া শেষ করে পুরো কক্সবাজারের সকল স্পটগুলো সারাদিন ঘুরে দেখলাম, ঘোরাঘুরি শেষ করে পরের দিন, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান জনাব ফরিদুল মোস্তফা খান সাহেবের আমন্ত্রণে, তার বাসায় দুপুরের দাওয়াত খেলাম, দাওয়াত শেষ করে কেনাকাটা ও ঘোরাঘুরি শেষ করে, সকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা করলাম কলাতলী মোড় থেকে, সেজুতি ট্রাভেলসে গাড়িতে বিজনেস ক্লাসে আমাদের তিনটি টিকিট ছিল সামনের সিটে ,গিয়ে দেখি গাড়ি নাই একটু পরে আসবে ,বলল গাড়ি চলে এসেছে পুরান ময়লা ভাঙ্গা চুড়া একটি গাড়ি ,এবং বিজনেস ক্লাস তো না ইকনোমিক ক্লাস ,সুপার ভাইজারের সাথে অনেকক্ষণ কথা বলে তাদের বিভিন্ন রকমের ভাঁওতাবাজ কথা শুনলাম , নিজেদের সিটে বসে পড়লাম, কি আর করব এই গাড়িতেতো আসতেই হবে,  কক্সবাজার এরিয়া পার হয়ে লোহাগড়ার পরে কিছুদূর  এসেই গাড়ি থামিয়ে দিল, সুপারভাইজার বলল পুলিশ চেকপোস্ট, গাড়ি থামানোর পরে পুলিশের ড্রেস পরা একজন সিভিলে দুইজন গাড়ির ভিতরে ঢুকে গেল, বিভিন্নভাবে তল্লাশি দুই একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ, একজনকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে গেল বড় সাহেবের কাছে, এর কিছুক্ষণ পরেই সুপারভাইজার এসে বলল এ ওয়ান সিটের যাত্রীকে পুলিশ নিচে ডেকেছেন, আমি এ ওয়ান সিটের যাত্রী নিচে গেলাম,লাগেজ রাখার বক্সের ওখানে,  নিচে গিয়ে দেখি সিভিল ড্রেসে একজন লোক জিজ্ঞেস করল, এই ব্যগ কার, আমি বললাম  আমার, আমি বললাম কিন্তু আপনি কে, উনি বলল আমি পুলিশের লোক,আমি বললাম আপনাকে তো দেখে পুলিশের লোক মনে হয় না আপনার আইডি কার্ড কই, উনি বললেন আপনি কে যে আপনাকে আইডি কার্ড দেখাবো, এইভাবেই তর্ক বিতর্ক চলছিল, যাই হোক পরবর্তীতে যখন জানতে পারলো যে আমি সাংবাদিক, তখন তারা বলল ভাই আপনারা এখানে থাকার দরকার নাই আপনি গাড়িতে চলে যান আপনাকে ধন্যবাদ, কিন্তু আমি বললাম গাড়িতে তো যাব, কিন্তু আগে বলুন আমার ব্যাগ আমাকে না জিজ্ঞেস করে কেন ধরলেন ,কেন লাগেজ বক্স খুললেন ,অনেক তর্ক বিতর্ক করে তারা আমাকে বলল ভাই আপনার সাথে আমাদের কোন তর্ক নাই আপনি গাড়িতে চলে যান, আমি দেখলাম এদের সাথে কথা বলে লাভ নেই, তখন আবার  গাড়িতে চলে আসলাম, পুলিশের চেকিং শেষ গাড়ি ছেড়ে দিল ,গাড়ির স্টাফ দের কে জিজ্ঞেস করলাম আপনারা কেন যাত্রীদেরকে ওখানে যাওয়ার পরে লাগেজ বক্সের গেট খুললেন না, আগে কেন খুলেদিলেন এটা কি কোন নিয়মের ভিতরে পড়ে, তারা উত্তর দিল পুলিশের সাথে কথা বললে আপনি বুঝতেন পুলিশের ব্যবহার কেমন, না খুলে দিলে আমাকে ধরে তারা মারপিট করত, আমি বললাম এটা কি তাহলে আপনাদের ডিউটির ভিতরে পড়েনা, আপনি কেন গেট খুলবেন অবশ্যই বলবেন যাত্রী আসার পরে আমি গেট খুলবো, এবং তাদের সামনে ব্যাগগুলো চেক করবেন এটাই তো আপনার দায়িত্ব, উনার দায়িত্ব অবহেলার কথা বিভিন্ন ভাওতাবাজির কথার মাধ্যমে বেয়াদবি মূলক আচরণের মাধ্যমে এড়িয়ে গেলেন, তারপরে শুরু হলো খেলা, বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকাল গাড়ির মতো লোক ও হকারদের উঠাতে থাকলেন,  শেষ পর্যায়ে এসি ইকোনোমিক ক্লাস নামের এই লোকাল গাড়ি দিয়ে কোনভাবে ঢাকায় এসে পৌঁছলাম, ফ্যামিলি নিয়ে বাসায় এসে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করলাম আলহামদুলিল্লাহ।

এই ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে এতোটুকুই বুঝে পেলাম ঢাকা থেকে কক্সবাজারে যাওয়া আসা, থাকা ,খাওয়া-দাওয়া, কেনাকাটা, গাড়ি ভাড়া, কক্সবাজারের অটো ভাড়া সহ সকল কিছুতেই যেন এক ভদ্রবেশে ছিনতাই এর আখড়া, কক্সবাজারের প্রতিটা সেক্টরে অনিয়মের মহা বাণিজ্য ,এ যেন দেখার কেউ নেই ওখানে, দিনে দুপুরে ভদ্রবেশে সকল সেক্টরে মানুষের পকেট কাটা হয়, সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, বিদেশীরা ওখানে তো আসেনই না, এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে আমাদের পর্যটন এরিয়ায় মানুষের যাওয়ার আগ্রহ কমে যাবে।

লেখক
সাংগঠনিক সম্পাদক জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি


আরো বিভন্ন নিউজ দেখুন