• সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ০৪:৫৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবর
জনপ্রিয় আলেম ও ইসলামী বক্তা মাওলানা লুৎফুর আর নেই :সর্বত্রে  শোকের ছায়া ঈদগাঁওতে মাওলানা আব্বাসের জানাজায় মুসল্লির ঢল বাইতুল ইজ্জত জামে মসজিদের বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত  বর্নাঢ্য আয়োজনে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন সমিতির বার্ষিক মিলন মেলা ও পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন  লামায় মানবজমিন-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ঈদগাঁওর সুপারি গলির আশপাশ ময়লা আবর্জনায় ভরপুর : ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ  উখিয়ায় আলোচিত সৈয়দ করিম হত্যাকন্ডের আসামী  সালামত উল্লাহ গ্রেফতার : রক্তাক্ত ছুরি ও নিহতের পরিহিত জামা উদ্ধার পুলিশ পদক পেলেন কক্সবাজার পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম। পুলিশ সপ্তাহ ২০২৪’ উপলক্ষে পদক পেলেন র‌্যাব-১৫ এর সিইও সহ ৩ কর্মকর্তা টেকনাফ থানার ওসি ওসমান গনির নেতৃত্বে পুলিশের অভিযানে দুইটি অস্ত্র উদ্ধার।

———–আত্ম অহংকার

কানিজ ফাতেমা
আপডেট : সোমবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৩

————-আত্ম অহংকার


কানিজ ফাতেমা


বিকেল বেলায় বাবার হাতের দেড় মণ ওজনের চড়টা খেয়ে একরকম পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম আমি। তবে শুধু আমি নই আমার সাথে ফুপুর গালেও চড় বসিয়ে দিল বাবা। দাদীমা আহাজারি শুরু করলো আর মা ফুপুকে সরিয়ে নিয়ে চলে গেল
এই বলে -“যুবতি মেয়েকে মারতে নেই।“
কিন্তু আমি তো যুবতি নই সবে ক্লাস ফাইভে পড়ি। তাই হয়তো আমাকে চড় দেওয়া জায়েজ। মার কথায় হয়তো সেটাই মনে হয়েছিল বাবার। তাই আমার গালে আর একটা চড় বসিয়ে দিয়ে রাগে রাগে নিজের ঘরে চলে গেলেন তিনি।
তরপর মার উপর চিৎকার চেঁচামেচি। ভাবটা এমন -“ফুপু আমার মায়ের মেয়ে, আর সে দোষ করে ফেলেছ তাই সব দোষ আমার মার।”-কথাটা ভেবে আমার মাথাটা রাগে গজ গজ করতে লাগলো। আমার মার কী দোষ? দোষ করেছে ফুপু।তাহলে দাদীমাকে বকা দিক বাবা। তাছাড়া ফুপু কি মার কথা শোনে না মানে? বাবা সব সময় এমন করে।
দাদীমা যা কিছু বলে সব বিশ্বাস করে বসে থাকে। আর কথা শুনে কষ্ট পায় আমার মা।
এবারও তাই হয়েছে দাদীমাই ফুপুকে অনুমতি দিয়েছিল। আর বাবা মাকে বকছে আর আমার তো গাল দুটি জ্বলে যাচ্ছে।

ডাইনিংয়ে একা একা দাঁড়িয়ে রয়েছি। বড় ভাইয়া চুপচাপ পড়তে বসে গেছে।তিনি খুব পড়ুয়া কি না! খুব কান্না পাচ্ছে কিন্তু কাঁদবো না। বাবা তে সবসময়ই এটা করে। দাদী ফুপু যতই অন্যায় করুক বকাটা আমাকে অথবা মাকে শুনতে হবে। বড় ভাই এসব থেকে দূরে থাকে।
যাই হোক, সব রাগ হজম করে সন্ধ্যার আযান দেয়ার সাথে সাথে পড়তে বসে গেলাম। বড় ভাই ফিসফিস করে বলল
“কেন গেছিস ফুপুর সাথে?”
“আমি কোথায় গেলাম? দাদীমাই তো পাঠালো।”
“দাদীমা পাঠালো? খুব ভালো। এবার গাল দুটিতে বরফ লাগিয়ে বসে থাক।”
“লাগবে না।”-রাগ দেখিয়ে বললাম।
বড় ভাই আবার পড়ায় মনোযোগ দিল। আমি খাতা কলম নিয়ে নাড়াচাড়া করছি আর ভাবছি দোষটা কি আমার ছিল?

দুপুর বেলা কেবল স্কুল থেকে ফিরে খেতে বসেছি । মা বলল খেয়ে বিশ্রাম নিতে। আমিও আজ লক্ষী মেয়ের মত সোজা ফুপুর ঘরে ঘুমাতে চলে গেলাম।
ঘরে ঢুকেই ফুপুকে সেজে গুজে রেডি হতে দেখে মনের মধ্যে গুড়গুড় করে উঠলো। উচ্ছ্বাস দেখিয়ে বললাম
“কোথায় যাচ্ছো ফুপু?”
“কেন। তুই যাবি?”
“না ফুপু । বাবা বাসায় এসে না দেখলে বকবে।”
“বকবে কেন? তোর বাবা জানতেই পারবে না।”
“কোথায় যাবে ফুপু?”- কৌতুহল নিয়ে জিজ্ঞেস করতেই ফুপু বলল
“বান্ধবীর বাসায়। আমরা সব বন্ধবী মিলে এক জায়গায় ঘুরতে যাবো।”
“কোথায়?”
“এখন বলবো না। গেলে দাদীমাকে বলে রেডি হয়ে নে।”

আমি দৌড়ে দাদীমার কাছে চলে গেলাম। দাদীমাও অনুমতি দিয়ে দিলেন। মা আর কিছু বলতে পারলো না।
ফুপুর সাথে একই পাড়ায় তার পাঁচ বান্ধবীর বাসা হয়ে সবাই এক সাথে রওনা হলাম গন্তব্যের দিকে।
গন্তব্যস্থলে পৌছে গলা শুকিয়ে গেল আমার। বাবা জানলে কি হবে ভেবে অস্থির হয়ে বললাম
“ফুপু বাসায় চলো। বাবা বোকবে।”
“তোকে কে আসতে বলেছিল?”- ফুপু ধমক দিতেই বললাম
“তুমিই তো বললে।”
“আচ্ছা শোন। একটু পরেই চলে যাবো। না হলে বান্ধবীরা রাগ করবে।”
আমি ভয়ে ভয়ে চোরের মত ফুপুর হাত ধরে থাকলাম পুরোটা সময়।মহিলাদের বসার জায়গায় কোনে জায়গা ফাঁকা নাই।
বাসায় রওনা দিতে বিকেল হয়ে গেল। বাসায় ফেরার সময় পথে বড় ভাইয়াকে সাইকেলে আসতে দেখে ফুপু কাছে ডাকতেই সে অস্থির হয়ে বলল-
“কোথায় ছিলে তোমরা? বাবা বাড়িতে এসে খুঁজছে।”
ভয়ে আমার বুক ধড়ফড়ানি শুরু হয়ে গেল। ফুপু স্বাভাবিক ভাবে বলল-
“বাসায় গিয়ে বল আমরা বেলী আপুদের বাসায় ছিলাম।আসছি।”

ভাইয়া দ্রুত বাসায় চলে গেল। বাবার সামনে গিয়ে কি বলেছে কে জানে কথাটা ভাবতে ভাবতে বাসার সদর দরজায় এসে পরলাম আমরা।
বাসায় আসতেই অগ্নিমূর্তি ধারণ করা আমার বাবাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আমার ছোট্ট জানটা শুকিয়ে গেল। বাবা গম্ভীর ভাবে জিজ্ঞেস করলো –
“কোথায় গিয়েছিলে?”
ফুপু বলল- “বেলীদের বাসায়।”
বাবা রাগে রাগে ফুপুকে চড় বসিয়ে দিল সাথে আমার গালটাও লাল করে দিল।
বাবা চলে গেলে দাদীমা ফুপুর কাছে গিয়ে বললেন -“ফুপু আমায় সাথে নিয়ে বান্ধবীদের সাথে সিনেমা দেখতে গেছে ,সেটা বাবার কোন বন্ধু দেখে ফেলেছে এবং শুভাকাঙ্খী হয়ে বাসায় এসে বাবাকে খবর পৌঁছে দিয়ে গিয়েছেন।”
এক মনে ক্লাস ফাইভার অংক বইটা সামনে নিয়ে কথাগুলো ভাবছি এমন সময় বড় ভাইয়া ধীর গলায় জিজ্ঞেস করলো -কী সিনেমা ছিল?
বললাম- “আত্ম অহংকার।”
“গাল দুটি ব্যাথা না রে।”
“না তো ভাইয়া”
বলেই বড় ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে হেসে ফেললাম।

সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খান সম্পাদিত


আরো বিভন্ন নিউজ দেখুন