• বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৪০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবর
ঈদগাঁও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৩টি পদে মোট ১৭জনের মনোনয়নপত্র দাখিল লাঞ্ছিত জীবনগাঁথা ঈদগাঁওতে ডিসি ও এস পি, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে ঈদগাঁওতে নতুন পুরাতন প্রার্থীদের দৌঁড় ঝাঁপ ইয়াবা ও দালালীর জাদুতে আলাদীনের চেরাগপ্রাপ্ত কথিত সাংবাদিক নেতা কেতারা কি আইনের উর্ধ্বে? জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলেন পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আব্দুল হাই ৩১ দিন পর অক্ষত অবস্থায় মুক্ত জাহাজসহ জিম্মি থাকা ২৩ নাবিক জামিন প্রাপ্ত মাদক ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া, ঠেকানো যাচ্ছে না আগ্রাসন পেটে ভাত নেই,”গরিবের আবার কিসের ঈদ” কক্সবাজারে মাদক পতিতার মজুদ,আনন্দ বাড়াতে উড়াল দিচ্ছে ধনীরা কুতুবদিয়ায় পানিতে ডুবে একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু

পেকুয়ায় প্রতিরাতে ঘটছে চুরি,পুলিশ কেন চুরি ঠেকাতে ব্যর্থ?

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
আপডেট : মঙ্গলবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৩


নিজস্ব প্রতিবেদক

গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের মিয়া পাড়া গ্রামে লোহার গেইট ভেঙে পার্কিং এরিয়া থেকে এনজিও কর্মকর্তা আবিদুর রহমানের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল চুরি করে নিয়ে যায় মুখোশ পরিহিত একজন চোর। পুরো ঘটনাটি সিসি ক্যামেরায় রেকর্ড হয়। চুরির বিষয়টি জানতে পেরে পরদিন সকালে পেকুয়া থানায় যান ভুক্তভোগী আবিদুর রহমান। কিন্তু চুরির স্পষ্ট প্রমাণ থাকা স্বত্তেও মামলা নেয়নি পুলিশ। বরং লিখিত একটি অভিযোগ দাখিল করিয়ে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এর মাঝে পেরিয়ে গেছে একমাস। কিন্তু খোয়া যাওয়া মোটরসাইকেল বা চোরের কোন হদিস নেই। পুলিশ আছে উদাসীন ভূমিকায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একই কায়দায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলা কোয়ার্টার থেকে জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তার সরকারি মোটরসাইকেল চুরি হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৩টার দিকে পেকুয়া শেখের কিল্লা ঘোনা এলাকার মাহমুদ নুরের ভাড়া বাসা থেকে পল্লী বিদ্যুতে কর্মরত আমান উল্লাহ নামের এক ব্যক্তির ১২৫ সিসি একটি ডিসকাভার মোটরসাইকেল চুরি হয়। ২২ সেপ্টেম্বর পেকুয়া গোঁয়াখালী এলাকার প্রবাসী মোহাম্মদ হিজবুল্লার বাড়ি থেকে মোবাইল ও মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর পেকুয়া ইসলামী ব্যাংকের পাশে একটি এজেন্ট ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান থেকে নগদ ২ লক্ষ ৭০হাজার টাকা চুরি হয়। ৩১ আগস্ট রাতে পেকুয়া উপজেলা সদরের চৌমুহনী স্টেশনের উত্তর পাশে ঘরের জানালা ভেঙে ব্যাংক কর্মকর্তা এরশাদের দুটি মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটে। তার আগে ৩০ আগস্ট ডিসি রোড় সংলগ্ন প্রবাসী নুর মোহাম্মদের বাড়ির মূল্যবান মালপত্র চুরি হয়। ২৩ আগস্ট পেকুয়া সদর ইউনিয়নের শেখের কিল্লা ঘোনা কেজি স্কুলের পাশে মাওলানা শহিদুল হকের বাড়ি থেকে ৪০ ভরি স্বর্ণালংকার ও একটি মোবাইল ফোন চুরি হয়। ২৪ জুলাই সদর শেখের কিল্লা ঘোনা এলাকার শফি আলমের বাড়ি থেকে ডিসকাভার ১০০ সিসির একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। ৭ জুন ডিসি রোড় এলাকায় জাহেদুল হকের বাড়ি থেকে এনজিও কর্মী মিহির চামকার একটি মটর বাইক চুরি হয়। তার আগে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের মিয়া পাড়ার ভাড়া বাসা থেকে চুরি হয় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ারুল আমিনের সদ্য কেনা মোটরসাইকেল।

পুলিশ সূত্র জানা গেছে, চুরির ঘটনায় গত আগস্ট মাসে পেকুয়া থানায় কোন মামলা রুজু হয়নি। সেপ্টেম্বর মাসে চুরির তিনটি মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে একটি উপজেলা জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তার সরকারী মোটরসাইকেল চুরি, অন্যটি গরু চুরির ও অপরটি বিকাশ দোকানের টাকা চুরির।

এদিকে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পুলিশের দারস্থ হলে কোনরকমের সহযোগিতা পাওয়া যায় না। উল্টো হয়রানি হতে হয়। এসব ঘটনায় পুলিশের যেন কোন দায় নেই। প্রতিরাতে কোথাও না কোথাও চোরের দল হানা দিচ্ছে। পুলিশ তাদের টিকিটাও ছুঁতে পারছে না বা চাইছে না।

ভুক্তভোগী আবিদুর রহমান বলেন, ভিডিও চিত্রসহ চুরির স্পষ্ট একটা ঘটনায় আমি অজ্ঞাত চোরের বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে ওইদিন কর্তব্যরত নারী ডিউটি অফিসার আমাকে অভিযোগ লিখে জমা দিতে বলেন। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতেও পুলিশের কোন ভূমিকা আমার দৃষ্টিগোচর হয়নি। বরং যতবারই আমি মোটরসাইকেল উদ্ধারের জন্য অভিযোগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই অমর বিশ্বাসের কাছে গিয়েছি, তিনি ততবারই উদাসীনতা দেখিয়েছেন। আমার সমস্যাকে গুরুত্বই দেননি।

ভুক্তভোগী আমান উল্লাহ বলেন, সিসি ক্যামেরায় ভিডিও ফুটেজসহ থানায় গিয়ে আমিও মামলা করতে চাইলে তা নেয়নি। ডিউটি অফিসার এসআই অমর বিশ্বাস বলেছিলেন, মামলা হলে আসামি দিতে হবে। কিন্তু আমি শনাক্ত না করে কাকে চোর বলে সাবস্ত করবো। চোর শনাক্ত করা, আইনের আওতায় আনা তো পুলিশের কাজ। পুলিশ আমাকে নয়ছয় বুঝিয়ে একটি হারানোর জিডি রুজু করে। কিন্তু আমার মোটরসাইকেল তো হারিয়ে যায়নি, চুরি হয়েছে। এরপরও পুলিশ যদি মোটরসাইকেল উদ্ধারে তৎপর হতো, তবে মনকে সান্তনা দিতে পারতাম। চোর চিহ্নিত করতে বা চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধারে পুলিশের কোন গরজ নেই। তাই এর আশা বাদ দিয়েছি।

পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক নেতা নাছির উদ্দীন বাদশা বলেন, পেকুয়া উপজেলার কোথাও না কোথাও প্রতিরাতে চুরির ঘটনা ঘটছে। সবচেয়ে বেশি ঘটছে উপজেলা সদরে। চৌমুহনী ও পেকুয়া বাজারের আশেপাশে। কিন্তু এ নিয়ে থানা পুলিশের কোন মাথাব্যথা নেই। বরং ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে তারা প্রতারিত করছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, চুরির স্পষ্ট ঘটনা। কিন্তু নিয়মিত মামলার পরিবর্তে অভিযোগ বা জিডি নিয়ে এসব ঘটনা ধামাচাপা দেয়া হচ্ছে। চুরির ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার প্রতি পুলিশের এতো আগ্রহ কেন, তা আমার বোধগম্য নয়।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে পেকুয়া থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) অমর বিশ্বাস বলেন, কেউ অভিযোগ বা জিডি নিয়ে এলে তো আমরা জোর করে মামলা রুজু করতে পারি না। তাছাড়া আমি এখন ছুটিতে আছি, পরিবারকে সময় দিচ্ছি। পেশাগত বিষয়ে কথা বলার সময় এখন আমার নেই।

পেকুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুদীপ্ত শেখর ভট্টাচার্য্য বলেন, মামলা, জিডি বা অভিযোগ যা-ই করবে তা ভুক্তভোগীর এক্তিয়ার। এখানে পুলিশের পক্ষ থেকে কোন চাপ থাকার কথা নয়। হয়তো ভুক্তভোগীরা যেভাবে লিখে এনেছেন, দায়িত্বরত কর্মকর্তা সেভাবে ব্যবস্থা নিয়েছেন। তারপরও বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে।

এব্যাপারে সহকারী পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) রকীব উর রাজা বলেন, ভুক্তভোগীরা চাইলে অজ্ঞাতনামা চোরদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পারেন। জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ পুলিশের। চুরির ঘটনা গুলো গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।


আরো বিভন্ন নিউজ দেখুন