• রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ১১:২২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবর
লাঞ্ছিত জীবনগাঁথা ঈদগাঁওতে ডিসি ও এস পি, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে ঈদগাঁওতে নতুন পুরাতন প্রার্থীদের দৌঁড় ঝাঁপ ইয়াবা ও দালালীর জাদুতে আলাদীনের চেরাগপ্রাপ্ত কথিত সাংবাদিক নেতা কেতারা কি আইনের উর্ধ্বে? জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলেন পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আব্দুল হাই ৩১ দিন পর অক্ষত অবস্থায় মুক্ত জাহাজসহ জিম্মি থাকা ২৩ নাবিক জামিন প্রাপ্ত মাদক ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া, ঠেকানো যাচ্ছে না আগ্রাসন পেটে ভাত নেই,”গরিবের আবার কিসের ঈদ” কক্সবাজারে মাদক পতিতার মজুদ,আনন্দ বাড়াতে উড়াল দিচ্ছে ধনীরা কুতুবদিয়ায় পানিতে ডুবে একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু টেকনাফ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়দের সহায়তা চাইলেন এসপি মাহফুজ

নুর হাসপাতালের ভুল রিপোর্ট, দায়সারা প্রতিবেদন তদন্ত কমিটির

নিজস্ব প্রতিবেদক:
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩


নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের পেকুয়ায় রোগীকে ভুল রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগের দায়সারা প্রতিবেদন নিয়ে তদন্ত কমিটির বিরুদ্ধে সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক ভুক্তভোগী।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজারের সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত এ অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী রোগী মো. শিবলী সাদেক।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জুলাই অসুস্থতা নিয়ে ডাঃ তাহমিদুল ইসলামের কাছে যান পেকুয়া সদর ইউনিয়নের মিয়া পাড়া এলাকার মাহবুব আলমের ছেলে শিবলী সাদেক। ডাক্তারের পরামর্শে তিনি USG of W/A, CBC ও Urine R/E পরীক্ষা করাতে পেকুয়া সদরের নূর হাসপাতালে যান। সেখানে তার রিপোর্টে Chronic Liver Disease (CLD) ও Fatty Change in the Liver উল্লেখ করেন। রিপোর্ট দেখে ডাক্তারের কথা শুনে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরে ডাঃ তাহমিদুল তাকে ডিএনএ ও এন্ডোসকপি পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম পাঠান। সেখানে গিয়ে এসব পরীক্ষা করিয়ে তিনি ডাঃ মুশফিকুল আবরারের শরণাপন্ন হন। ডাক্তারের পরামর্শে চট্টগ্রামের সিগমা ল্যাব থেকে USG of W/A পরীক্ষা আবার করানো হয়। সেখানে রিপোর্ট আসে নরমাল। যা নূর হাসপাতালের সম্পূর্ণ বিপরীত।

ভুক্তভোগী শিবলী সাদেক বলেন, পরীক্ষার রিপোর্ট ভুল দেওয়ার কারণে আমি ভুল চিকিৎসার শিকার হতে যাচ্ছিলাম। তাই আমি সুস্থ হয়ে এর প্রতিকার চেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেই। এর প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। কমিটির প্রধান করা হয় ডাঃ তাহমিদুল ইসলামকে। কিন্তু ২০ দিন পরে উক্ত কমিটি দায়সারা একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। ভুল রিপোর্ট দেওয়া ল্যাবের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ না করে তদন্ত প্রতিবেদনে আমাকে সহানুভূতি জানানো হয়। এছাড়া পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ডাঃ মহিউদ্দিন মাজেদ আমাকে আপোষ মীমাংসার প্রস্তাব দেন। নুর হাসপাতালের পরিচালক মোরশেদ আমাকে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করেছেন।

তিনি আরও বলেন, আমি ন্যায়বিচার পাওয়ার স্বার্থে কক্সবাজারের সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কারণ নূর হাসপাতালের প্রকৃত মালিক ও পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাঃ মুজিবুর রহমান যথেষ্ট প্রভাবশালী। তিনিই প্রাথমিক তদন্ত প্রভাবিত করে পার পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। আমি অভিযোগ করেছি নূর হাসপাতালের বিরুদ্ধে, কিন্তু তদন্ত কমিটি পেকুয়া সকল হাসপাতালকে উদ্দেশ্য করে কিছু প্রস্তাবনা দিয়ে প্রতিবেদন দিয়েছেন। যে হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট নির্দেশনা বা সুপারিশ দেয়নি। তাদের নামও নেয়নি। তা আমাকে হতবাক করেছে। নূর হাসপাতালের ভুল রিপোর্টের জন্য আমি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। তাদের ভুল রিপোর্টে পেকুয়া আরও অসংখ্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তাই তাদের বিরুদ্ধে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানাচ্ছি।

এব্যাপারে তদন্ত কমিটির প্রধান ও পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক তাহমিদুল ইসলাম বলেন, তদন্তে যা পেয়েছি, আমরা সেভাবে প্রতিবেদন দাখিল করেছি। নুর হাসপাতালকে উদ্দেশ্য করে দুটি প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। তাদের নাম উল্লেখ না করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়। আমাদের ওপর কোন চাপ ছিল না। নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হয়েছে।

পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মহিউদ্দিন মাজেদ বলেন, আপোষ মীমাংসার কোন প্রস্তাব অভিযোগকারীকে দেয়া হয়নি। আমরা তদন্ত করেছি। এতে সে সন্তুষ্ট না হলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে যেতে পারে। সেখানে আরেকটি তদন্ত হবে।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে নূর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করে কাউকে পাওয়া যায়নি।


আরো বিভন্ন নিউজ দেখুন