• বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:৪০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবর
ঈদগাঁও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৩টি পদে মোট ১৭জনের মনোনয়নপত্র দাখিল লাঞ্ছিত জীবনগাঁথা ঈদগাঁওতে ডিসি ও এস পি, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে ঈদগাঁওতে নতুন পুরাতন প্রার্থীদের দৌঁড় ঝাঁপ ইয়াবা ও দালালীর জাদুতে আলাদীনের চেরাগপ্রাপ্ত কথিত সাংবাদিক নেতা কেতারা কি আইনের উর্ধ্বে? জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলেন পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আব্দুল হাই ৩১ দিন পর অক্ষত অবস্থায় মুক্ত জাহাজসহ জিম্মি থাকা ২৩ নাবিক জামিন প্রাপ্ত মাদক ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া, ঠেকানো যাচ্ছে না আগ্রাসন পেটে ভাত নেই,”গরিবের আবার কিসের ঈদ” কক্সবাজারে মাদক পতিতার মজুদ,আনন্দ বাড়াতে উড়াল দিচ্ছে ধনীরা কুতুবদিয়ায় পানিতে ডুবে একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু

বিচারকেরা ভুল-ভ্রান্তির উর্ধ্বে নয়: কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা জজ

মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী:
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী:


মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী: কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সাইফুল ইলাহী বলেছেন, মানুষ হিসাবে বিচারকেরা ভুল ভ্রান্তির উর্ধ্বে নয়। এজন্য বিচরকেরা সবসময় সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে আইন অনুযায়ী ন্যায় বিচার করতে প্রাণান্তকর চেষ্টা করেন।

এই বিচারক বলেন, কিন্তু অনেক সময় একজন বিচারকের দৃষ্টি ভঙ্গি ও আইনের ব্যাখ্যা আরেকজন বিচারকের দৃষ্টি ভঙ্গি ও আইনের ব্যাখ্যার সাথে পার্থক্য হলে সেখানে বিচারকের আদেশে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।

তিনি বলেন, বিচার অঙ্গনে ২ টি প্রচলিত কথা আছে। তার একটি হলো : “ন্যায় বিচার হচ্ছে কিনা।” ন্যায় বিচার একটা আপেক্ষিক বিষয়। সেজন্য ন্যায় বিচারের চেয়েও আইন অনুযায়ী যথাযথ ও সঠিকভাবে বিচার করা হচ্ছে কিনা, একজন বিচারকের জন্য সেটাই মূখ্য বিষয়।

বিচারক মোহাম্মদ সাইফুল ইলাহী বলেন, আইন অনুযায়ী বিচার করা হলে, সেক্ষেত্রে বিচারকের রায় বা আদেশ সংশ্লিষ্টজনের বিপক্ষে গেলে বলা হয়, “ন্যায় বিচার হয়নি।” এ রকম ধারণা মোটেও সঠিক নয়। যদি বিচারকার্যে আইনের কোন ব্যত্যয় হয়, তাহলে আইনজীবীরা বিচারকদের দেখিয়ে দিতে পারেন।

গত ৩১ আগস্ট কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আয়োজিত নবাগত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ শাহীন ইমরান সহ অন্যান্য বিচারকদের “বরণ অনুষ্ঠান” এ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ সাইফুল ইলাহী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিচার অঙ্গনে দ্বিতীয় প্রচলিত কথাটি হলো : “বার ও বেঞ্চের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।” কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতি যেভাবে নবাগত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ শাহীন উদ্দিন সহ জেলার সকল বিচারককে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নিয়েছেন, তাতে বার ও বেঞ্চের সম্পর্ক অবশ্যই সুদৃঢ় হবে, বিচারপ্রার্থীরা এর সুফল ভোগ করবে।

এছাড়া এই “বরণ অনুষ্ঠান” অধিকাংশ আইনজীবীকে বিচারকদের দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। এজন্য বিচারক মোহাম্মদ সাইফুল ইলাহী কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সকলকে ধন্যবাদ জানান।

বিচারক মোহাম্মদ সাইফুল ইলাহী বলেন, বিচারকেরা বিচারপ্রার্থীদের স্বার্থকে আইন অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবে প্রাধান্য দিতে গিয়ে, তাদের কল্যান দেখতে গিয়ে, আইনজীবীদের স্বার্থ দেখতে পারেননা। এজন্য অনেকসময় আইনজীবীদের স্বার্থ কিছুটা ক্ষুন্ন হলেও আইনজীবীদের মন খারাপ না করার জন্য তিনি অনুরোধ জানান।

বিচারক মোহাম্মদ সাইফুল ইলাহী নবাগত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ শাহীন উদ্দিন এর নেতৃত্বে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কক্সবাজার বিচার বিভাগকে আরো এগিয়ে নিতে, আরো সমৃদ্ধ করতে আইনজীবী সহ সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তারেক এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন-কক্সবাজারের নবাগত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ শাহীন উদ্দিন।

অ্যাডভোকেট নেজামুল হকের কোরআন তেলাওয়াত এর মাধ্যমে শুরু হওয়া বরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১, ২ ও ৩ এর বিচারক (জেলা জজ) যথাক্রমে মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন, মোহাম্মদ নুরে আলম ও মোহাম্মদ আবু হান্নান, কক্সবাজারের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন, কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহজালাল চৌধুরী, সাবেক সভাপতি ও জিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইসহাক, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ছিদ্দিকী, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মো: ছৈয়দ আলম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্বাস উদ্দিন চৌধুরী, পিপি অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম ফরিদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট শিবু লাল দে, অ্যাডভোকেট বাবলু মিয়া বক্তব্য রাখেন।

বরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিচারকদের মধ্যে, কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম আদালতের বিচারক যথাক্রমে মোঃ আবদুল কাদের, মো: মোশারফ হোসেন ও নিশাত সুলতানা, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম ও দ্বিতীয় আদালতের বিচারক যথাক্রমে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও মোছা: রেশমা খাতুন, সিনিয়র সহকারী জজ সুশান্ত প্রাসাদ চাকমা, সিনিয়র সহকারী জজ মৈত্রী ভট্টাচার্য, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শ্রীজ্ঞান তঞ্চঙ্গা, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আখতার জাবেদ, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসাদ উদ্দিন মোঃ আসিফ, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সহকারী জজ সাজ্জাতুন নেছা লিপি, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী জজ ওমর ফারুক, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা সাত্তার প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নবাগত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ শাহীন উদ্দিন সহ উপস্থিত সকল বিচারকদের কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।

প্রসঙ্গত, বরণ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, কক্সবাজারের নবাগত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ শাহীন উদ্দিন গত ৩০ আগস্ট যোগদান করেন। কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ এর দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সাইফুল ইলাহী থেকে তিনি জেলা ও দায়রা জজ এর দায়িত্ব বুঝে নেন।

বিচারক মোহাম্মদ শাহীন উদ্দিন হলেন-কক্সবাজারের ১৭তম জেলা ও দায়রা জজ। তিনি ১৮তম বিসিএস (জুডিসিয়াল) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৯৯ সালের জানুয়ারি মাসে নবীন বিচারক হিসাবে ‘সহকারী জজ’ পদে সরকারি চাকুরীতে যোগ দেন।

বিচারক মোহাম্মদ শাহীন উদ্দিন এর আগে খাগড়াছড়ি’র জেলা ও দায়রা জজ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার আগে তিনি কক্সবাজার জেলা জজশীপে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

এছাড়া, বিচারক মোহাম্মদ শাহীন উদ্দিন নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, বরিশালের চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম), নারায়ণগঞ্জে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) সহ দেশের বিভিন্ন বিচারালয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিচারক মোহাম্মদ শাহীন উদ্দিন চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের নাইখাইন গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর পিতা মরহুম মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ট্যাক্সেস অফিসার এবং একজন সফল অভিবাবক। মাতা ছেমন আরা বেগম একজন রত্নগর্ভা। মরহুম মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ও ছেমন আরা বেগম দম্পতির ৮ পুত্র এবং ৩ কন্যার মধ্যে বিচারক মোহাম্মদ শাহীন উদ্দিন তৃতীয়। এ সফল দম্পতির সন্তানেরা সকলেই স্ব স্ব ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত।


আরো বিভন্ন নিউজ দেখুন